বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা কিংবা দণ্ড স্থগিত হলে দণ্ডিত ব্যক্তি
নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত করেছেন সুপ্রিম
কোর্টের চেম্বার আদালত।
চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী
শনিবার এই আদেশ দেন । একইসাথে রবিবার পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে এই মামলার
শুনানির দিন ঠিক করেন আদালত।
গত ২৯ নভেম্বর যশোরের ঝিকরগাছা
উপজেলার চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে বিচারিক আদালতের দেয়া সাজা ও দণ্ড
স্থগিত করে আদেশ দেন বিচারপতি মোহাম্মদ রইচ উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এই আদেশে স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।
আবেদনটি
চেম্বার আদালতে দাখিল ও শুনানির দিন ছিল আজ শনিবার। আবেদনের ওপর শুনানি
নিয়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ আদেশে বলেন, যেহেতু এর আগে আমরা এ বিষয়ে একটি
সিদ্ধান্ত দিয়েছি, এটা আমরা আগামীকাল পর্যন্ত স্থগিত করে ফুল কোর্টে পাঠিয়ে
দিচ্ছি।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল
মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা, ডেপুটি
অ্যাটর্নি জেনারেল ড. বশির উদ্দীন প্রমুখ। দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ
বি এম বায়েজিদ ও খুরশীদ আলম খান।
আর সাবিরা সুলতানার পক্ষে
শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন,
ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
আদেশের
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আজকের আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে
অংশ নেয়ার সুযোগ আর থাকল না, যদি না আগামীকাল আপিল বিভাগ ভিন্নতর কোনো আদেশ
দেন। আপিল বিভাগ আদেশ না দেয়া পর্যন্ত চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল থাকবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু সাবিরা সুলতানাই নয়, এটা সংবিধানের বিধান। দুই বছরের বেশি দণ্ডিত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
জ্ঞাত
আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় চলতি বছর ১২ জুলাই
সাবিরা সুলতানাকে দুটি ধারায় তিন বছর করে মোট ৬ বছরের সাজা দেয় ঢাকার বিশেষ
জজ আদালত।
এর আগে সাজা স্থগিতে বিএনপির ৫ নেতার আবেদন খারিজ
করেছেন হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। ওই খারিজ আদেশে আদালত বলেছেন,
সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড
হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায়
তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে
আবেদন করেছিলেন বিএনপি নেতা ডা. জাহিদ। আপিল বিভাগ সে আবেদনের ওপর নো
অর্ডার দেন। অর্থাৎ হাইকোর্টের আদেশ বহাল।


No comments:
Post a Comment